কিভাবে দক্ষতা অর্জন করবেন? ফ্রি কোর্স বনাম পেইড কোর্স Free course vs paid course

Table of Contents

ধরুন আপনি চিন্তা ভাবনা করতেছেন যে অনলাইনে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করার। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন যে কোনো বিষয়ে স্কিল বা দক্ষতা অর্জন করা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি জানেন ই না কিভাবে দক্ষতা অর্জন করতে হয়? আপনি কি ইউটিউবের হাজার হাজার ফ্রি টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখে শিখবেন নাকি কোথাও গিয়ে কোর্সে ভর্তি হয়ে শিখবেন? কি চিন্তায় পড়ে গেলেন। আজকেল আলোচনার বিষয় ই হচ্ছে ফ্রি কোর্স বনাম পেইড কোর্স। কোনটা আপনার জন্য? ফ্রি কোর্সের সুবিধা কি কি আর পেইড কোর্সের সুবিধাগুলো কি কি। আর সেগুলোর অসুবিধাগুলোই বা কি কি। তবে চলুন দেরি না করে মুল আলোচনায় আসি।

সেল্ফ লার্নিং

আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন যে পৃথিবীতে যত সফল মানুষ আছে তাদের প্রায় সবাই সেল্ফ লার্ণার। মানে তারা নিজে নিজে শিখতে পছন্দ করে। আমি নিজেও একজন সেল্ফ লার্ণার। আমিও আপনাদেরকে সেল্ফ লার্ণার হওয়ার পরামর্শ দেই। কিন্তু সবাই তো আর সেল্ফ লার্নার হতে পারে না। তাই না? সেল্ফ লার্ণার হতে হলে আপনাকে যেই ফিল্ড এ কাজ করবেন ওই ফিল্ড এর প্রতি চরম আগ্রহ থাকতে হবে। তবেই আপনি নিজে নিজে খুটিয়ে খুটিয়ে ওই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। অন্যথায় আপনি এখানে নিজে নিজে শিখতে পারবেন না। এরপর রয়েছে আপনি যা শিখতে চান সেটা খুজে বের করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এটা আপনি খুজতে খুজতে শিখতে শিখতে অর্জন করে ফেলবেন তবে এটা সবার দ্বারা সম্ভব হয়ে উঠে না। আর আপনি যখন নিজে নিজে শিখবেন তখন আপনার কোনো বাহ্যিক টিচার থাকবে না । আপনাকে ইন্টারনেট এ ঘাটাঘাটি করে শিখতে হবে। তাই প্রচুর আগ্রহ ও মনযোগ থাকলে তবেই আপনি একজন সেল্ফ লার্ণার হতে পারবেন। আপনি ফ্রি কোর্স করেন আর পেইড কোর্স করেন দিন শেষে আপনাকে নিজে নিজেই শিখতে হবে। একজন পেইড কোর্সের  ইন্সট্রাক্টর আপনাকে হয়তো দেখিয়ে দিতে পারবে যে কিভাবে শিখতে হয়। কিন্তু শিখতে হবে আপনাকে নিজে নিজেই।

কিভাবে দক্ষতা অর্জন করবেন ফ্রি কোর্স বনাম পেইড কোর্স How to earn skill Free course vs paid course
free course vs paid course 

ফ্রি কোর্সের সুবিধা ও পেইড কোর্সের অসুবিধা

প্রথমেই আসুন জেনে নেই ইন্টারনেট ও ইউটিউবে থাকা ফ্রি কনটেন্ট ও ভিডিও টিউটোরিয়াল গুলোর সুবিধা ও পেইড কোর্সের অসুবিধা গুলো কি কি

ফ্রি ভিডিও বনাম পেইড কোর্স

  1. ইউটিউব/ফেইসবুক/ইন্সটাগ্রাম সহ বিভিন্ন স্যোসাল মিডিয়াতে ফ্রি ভিডিও টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়। যেখানে কোর্স বাবদ কোনো টাকা পয়সা খরচ হচ্ছে না। অন্য দিকে পেইড কোর্স এ ইউডেমি, স্কিলশেয়ার সহ বিভিন্ন প্রিমিয়াম প্লাটফর্ম এ কোর্স কিনতে পাওয়া যায়। যা কিনতে টাকা খরচ করতে হয়।
  2. আপনার শিখার উপর আপনার কন্ট্রোল থাকে। মনে করুন একটা স্কিল শেখা শুরু করলেন। একটা সময় গিয়ে মনে হলো না এটা আমার দ্বারা হবে না, বা এটা আমি পারবো না। তখন চাইলে আপনি এই স্কিল বাদ দিয়ে অন্য একটা স্কিল শেখা শুরু করতে পারেন। কিন্তু পেইড কোর্স কেনার পর কয়েকটা ভিডিও দেখার পর মনে হলো না এটা আমার দ্বারা হবে না এ ক্ষেত্রেও আপনি শেখা বাদ দিতে পারেন তবে এখানে আপনার কোর্স ফি এর টাকা নষ্ট হবে।
  3. ফ্রি কোর্স এর ক্ষেত্রে আপনার মাইন্ড চেঞ্জ করতে পারবেন যে কোনো সময়। মনে করুন আপনি গ্রাফিক ডিজাইন শিখতেছেন। একটা সময় গিয়ে আর গ্রাফিক ডিজাইন ভালো লাগছে না বা প্যারা মনে হচ্ছে ভাবতেছেন আমার ওয়েব ডিজাইন শেখা উচিৎ এটাতে ভালো করতে পারবো। এই ক্ষেত্রে আপনি চাইলেই অন্য স্কিল শেখা শুরু করতে পারেন। কিন্তু পেইড কোর্স এর বেলায় আপনার  সময় ও কোর্স ফি এর টাকা দুইটাই নস্ট হবে।
  4. ফ্রি কোর্স বা নিজে নিজে যখন আপনি স্কিল অর্জন করতে থাকবেন এক্ষেত্রে আপনি নিজেই নিজের প্রেরণা/মোটিভেশন পাবেন। এই ক্ষেত্রে আপনি যেই ফিল্ড এ কাজ করবেন এখানে আপনি দির্ঘদিন কাজ করার একটা প্রেরণা পাবেন। অন্যদিকে পেইড কোর্সে অনেক সময় টিচার/ইন্সট্রাক্টর এর চাপে পরে শিখতে হয়। বা ধরেন আপনি টিচার এর ধাক্কায় শিখতে শিখতে কোর্স শেষ করে ফেলছেন কিন্তু এরপর কর্মক্ষেত্রে গিয়ে একটা সময় আপনার আর এটা ভালো নাও লাগতে পারে। কারণ আপনি যখন একটা বিষয় নিজে নিজে শিখবেন তখন এটার প্রতি আপনার নিজস্ব ভালোবাসা কাজ করবে। অপরদিকে যখন পেইড কোর্স করবেন তখন হয়তো নিজের ভিতর থেকে স্কিল এর প্রতি ভালোবাসা নাও কাজ করতে পারে মানে চাপে পরে শিখে ফেললেন।

ফ্রি কোর্সের অসুবিধা ও পেইড কোর্সের সুবিধা

ফ্রি কোর্সের সুবিধাগুলো তো বললাম এখন আসুন দেখি ফ্রি কোর্সের কি কি অসুবিধা রয়েছে এবং কখন এবং কাদের জন্য পেইড কোর্স করা উচিৎ সেটা নিয়েই নিচের আলোচনা। দেখুন প্রত্যেকটা মানুষের শিখার ধরণ একনয়। তাই প্রত্যেকটা জিনিসের তুলনামুলক বিশ্লেষন প্রয়োজন

ফ্রি ভিডিও বনাম কোয়ালিটিফুল পেইড কোর্স

ফ্রি কোর্স বা রিসোর্স হচ্ছে অনেকটা বড় একটা লাইব্রেরীর মতন যেখানে হাজার হাজার বই আছে তো আপনি ওই লাইব্রেরির মেম্বারশীপ নিয়ে নিলেন যখন যেই বই পড়তে ইচ্ছে হবে তখন সেই বই পড়বেন। কিন্তু পেইড কোর্স হচ্ছে অনেকটা ইউনিভার্সির ক্লাসের মতন সেখানে আপনার একজন টিচার থাকবে সে আপনাকে সিলেবাস অনুযায়ি শিখাবে। এখানে একটা বিষয় নোট করে নেন সেটা হচ্ছে কোয়ালিটিফুল কোর্স।

  1. আপনি যদি পূর্বের রেকর্ড করা কোনো ভিডিও টিউটোরিয়াল ফাইল কিনে ফেলেন তবে সেটা ফ্রি ভিডিওর মধ্যেই পরবে কারন সেখানে আপনার কোনো লাইভ সাপোর্ট সিস্টেম নাই। কোথাও আটকে গেলে কোনো ইন্সট্রাক্টর পাবেন না প্রশ্ন করার জন্য। অন্য দিকে কোয়ালিটিফুল কোর্স হচ্ছে একটা টপ লেভেল ইউনিভার্সির মত যেখানে একজন টিচার আপনার সিলেবাস রেডি করে যখন যতটুকু শেখার দরকার তখন ততটুকুই শেখাচ্ছে। এটা হচ্ছে ফ্রি কোর্স ও কোয়ালিটিফুল কোর্সের মধ্যে মূল তফাৎ
  2. আর একটি পার্থক্য হচ্ছে ফ্রি কোর্সের মধ্যে আপনার তেমন কোনো ধারাবাহিকতা থাকে না।কারন আমাদের দেশে যদি স্কুল কলেজ না থাকতো তবে কিন্তু তেমন কেউ শিখার প্রতি আগ্রহ দেখাতো না। অন্যদিকে একটা পেইড কোর্স (এখানে পেইড কোর্স বলতে লাইভ কোর্স এর কথা বলা হচ্ছে যেখানে একজন ইন্সট্রাক্টর আপনাকে লাইভে ক্লাস করাবে এসাইনমেন্ট দিবে, প্রজেক্ট সাবমিট করাবে ইত্যাদি) এর মধ্যে আপনার একটা লিমিট থাকে শেখানোর যেখানে আপনার ক্লাসের একটা শিডিউল ও টাইম টেবিল থাকে। এটা আপনি ফ্রি কোর্স এর মধ্যে পাবেন না।
  3. একটা ফ্রি কোর্সে আপনি বুঝতে পারেন না যে কোনটা কতটুকু শিখতে হবে এবং কোথায় থেকে শুরু করতে হবে এবং কিভাবে শিখতে হবে এবং শিখা শেষ করতে করতে অনেক টাইম লেগে যাবে। অন্যদিকে একটা পেইড কোর্সে একজন এক্সপার্ট আপনাকে আউটলাইন করে করে ধরে ধরে যখন যেখানে যতটুকু শিখতে হবে ততটুুকুই শিখাবে। তাই আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন যে আপনি সঠিক টাই শিখছেন।
  4. ফ্রি কোর্সের অন্য একটি অসুবিধা হচ্ছে ট্রাবলশুট, ফিডব্যাক, ও কিউ.এন.এ। ধরুন আপনি একটা জিনিস শিখতেছেন। এই শিখার মধ্যে আপনি বিভিন্ন জায়গায় আটকে যাবেন তখন হয়তো আপনি ট্রাবলশুট করতে পারবেন না। ধরুন আপনি ভিডিও এডিটিং শিখতেছেন একটা জায়গায় এসে দেখলেন ওমুক টুল্স টা কাজ করতেছে না ইউটিউবে দেখলেন যে এটা কাজ করতেছে কিন্তু আপনার এখানে কোনো কারনে কাজ করতেছে না। তখন আপনি এটার সমাধান খুজে পাবেন না।যদিও বিভিন্ন ফোরাম আছে যেমন- Reddit, Quora এগুলোতে প্রশ্ন করলে বিভিন্ন সমাধান পাওয়া যায়। এটার সমাধান নাই যে ব্যপারটা এমন নয়। সমাধান আছে কিন্তু আপনি করতে পারছেন না। অন্যদিকে একটা পেইড কোর্সে আপনি যখন সমস্যায় পরবেন তখন আপনি তৎখনাৎ লাইভ সাপোর্টে নক দিয়ে আপনার সমস্যার সমাধান করে নিতে পারবেন তাছাড়া সাপোর্ট গ্রুপ ও টিম থাকে যারা আপনার সমস্যার সমাধান করে দিবে। এবং আরেকটি বিষয় হলো এখানে আপনি একটা প্রজেক্ট বা কাজ কম্লিট করার পর আপনার টিচারকে দেখাতে পারবেন যে এটা কেমন হয়েছে তার কাছ থেকে ফিডব্যাক পাবেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর এর মাধ্যমে আপনাকের কাজের গতি বৃদ্ধি পাবে। যেটা ফ্রি কোর্সে হয়ে উঠে না হলেও অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
  5. ফ্রি কোর্সে এ নিজে নিজে শিখতে অনেক টাইম লেগে যায় যেটা কোয়ালিটিফুল পেইড কোর্সে এ এত টাইম লাগে না।
  6. নেটওয়াকিং এর ক্ষে্ত্রে ফ্রি কোর্সের তুলনায় পেইড কোর্স সুবিধাজনক। যখন আপনি ফ্রি কোর্স মানে নিজে নিজে একা একা শিখবেন তখন হয়তো আপনার কারো সাথে নেটওয়াকিং তৈরি হবে না। অন্যদিকে পেইড কোর্স এ ভর্তি হলে আপনার অন্যান্য স্টুডেন্টদের সাথে একটা যোগাযোগ তৈরি হয় এবং আপনার ইন্সট্রাক্টর এর সাথে নেটওয়াকিং তৈরি হয় যেটা আপনার কোর্স শেষে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিক রাখে। অন্যদিকে ফ্রি কোর্সে আপনার নিজেকে নিজের কাজ/জব খুজে নিতে হবে।
  7. সর্বশেষ ফ্রি কোর্সের একটা ছোট অসুবিধা হলো সার্টিফিকেট। আপনি যদি কোনো পেইড কোর্স করেন সেই ক্ষেত্রে আপনার প্রতিষ্ঠান আপনাকে একটি সার্টিফিকেট প্রদান করবে। কিন্তু বিশ্বাস করুন এটা তেমন মেজর ইস্যু নয়। কারণ আপনার যদি স্কিল থাকে তাহলে সার্টিফিকেট বড় কিছু নয়।

এই হচ্ছে ফ্রি কোর্সের অসুবিধা ও কোয়ালিটিফুল পেইড কোর্সের সুবিধা।শুরুতেই আমি একটা কথা বলেছি যে সবার শিখার ধরন কিন্তু এক নয়। এখন আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে আপনি কোনটা করবেন। ফ্রি কোর্স নাকি পেইড কোর্স

ফ্রি কোর্স নাকি পেইড কোর্স কোনটা করা উচিৎ

আমার মনে হচ্ছে আপনাকে এটা নিয়ে আরো চিন্তা করা উচিৎ কারন আপনার শেখার ধরন সম্পর্কে আমি বলতে পারছিনা। তবে আমি আপনাকে এটাই বলবো যে, আপনি দুইটাকে মিক্স করে শিখেন এতে ভালো একটা আউটপুট পাবেন। আপনি প্রথমে ফ্রি রির্সোস ও ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখে শিখা শুরু করেন। কিছুদিন শেখার পর আপনার কাছে মনে হবে যে না আমি এই ফিল্ডে এ ভালো কিছু করবো বা এই সেক্টর এ আমি ভালো করতে পারবো অনেকদিন তো ফ্রি ভিডিও দেখে শিখলাম এখন আমার একজন এক্সপার্ট দরকার  গাইডলাইন দরকার আমাকে গাইড করার জন্য।একজন মেন্টরশিপ দরকার তখন আপনি একটি কোয়ালিটিফুল পেইড কোর্সে ভর্তি হতে পারেন।

এখানে বারবার কোয়ালিটিফুল পেইড কোর্স বলার কারন হলো সব কোর্স কিন্তু মানসম্মত হয় না। আপনি যদি প্রি রেকর্ডেড কোর্স কিনে ফেললেন যেখানে কোনো সাপোর্ট এর ব্যবস্থা নাই শুরু একটা কোর্স বান্ডেল ভিডিও কন্টেন্ট সেক্ষেত্রে ঐটা কিন্তু ফ্রি কোর্সের মতই। তাই কোনো কোর্সে  ভর্তি হওয়ার পূর্বে আপনাকে দেখতে হবে সেই কোর্সে এক্সট্রা কি কি বেনিফিট আছে বা সাপোর্ট  এর কেমন ব্যবস্থা আছে এবং কোর্স শেষে জব/কাজ এর কেমন সুযোগ সুবিধা আছে কিনা বা যে আপনাকে শিখাচ্ছে সে কতটুকু এক্সপার্ট এবং আপনাকে কতটুকু গাইড করতে পারবে যেই ফিল্ড এ কাজ করছে ওই ফিল্ড সম্পর্কে কতটা জানে বা তাদের সাপোর্ট কতদিন পাবেন এই ধরনে বিষয়বস্তু দেখেই তবে একটা কোর্সে আপনার ভর্তি হবেন। ইত্যাদি। তাই আপনি অবশ্যই একটি কোয়লিটিফুল পেইড কোর্সে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করবেন।

সবশেষে

এই হচ্ছে আজকের আলোচনা। আশাকরি আপনাদের পুরো ব্যাপারটি ভালো লেগেছে। এখানে সোহাগ ভাই এর অবদান টাই সবচেয়ে বেশি। আপনারা চাইলে সোহাগ ভাই এর ভিডিও এডিটিং কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। এটা একটি মানসম্মত কোর্স। ভর্তি হতে ভিজিট করুন Techaloy

See also  রবি ইন্টারনেট অফার কিভাবে দেখে ২০২৩