কম্পিউটার দোকান ব্যবসা আইডিয়া, ষ্টুডিও ও অনলাইন দোকান দিতে কি কি লাগে?

কম্পিউটারের দোকানের ব্যবসা খুব লাভজনক একটি ব্যবসা। আপনি গ্রাম অথবা শহরে যেখানেই বসবাস করেন না কেন বর্তমান ডিজিটাল যুগে প্রত্যেকেরই অনলাইনে বিভিন্ন কাজের প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন কাজে তারা কম্পিউটারের দোকানে যায়। বাজারে কয়েকটা কম্পিউটারের দোকান থাকলেও আপনি কম্পিউটারের দোকান দিতে পারেন কোনো সমস্যা নেই।

কিভাবে কম্পিউটারের দোকানের ব্যবসা শুরু করবেন এবং কম্পিউটারের দোকান শুরু করতে কি কি প্রয়োজন ইত্যাদি বিষয়ে আজকে বিস্তারিত একটা ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করবো।

দোকান নির্বাচন

কম্পিউটার বা অনলাইন কাজের দোকান যেখানেই দেন না কেন মোটামোটি চলবে। তবে একটু ভালো পজিশনে দোকান নিতে পারলে খুবই লাভবান হওয়া যায়। যেই সব জায়গায় কম্পিউটার এর দোকান দিলে বেশি লাভবান হওয়া যাবে সেইসব জায়গার মধ্যে রয়েছে:

  • সাব-রেজিস্টার অফিসের আশে পাশে।
  • ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট বা হাইকোর্ট এর আশে পাশে
  • স্কুল কলেজ এর আশে পাশে
  • পাসপোর্ট অফিস/ভিসা অফিসের আশে পাশে
  • বিমান বন্দর, ট্রাভেল্স/ টুর অফিসের কাছে
  • ভূমি অফিস বা সরকারি অফিসের আশে পাশে
  • হাসপাতাল এর আশে পাশে
  • রেলওয়ে ষ্টেশন বা বাস ষ্টেশন এর কাছাকাছি
  • বড় বাজার এর কাছে
  • গার্মেন্টস কারখানার সমৃদ্ধ এলাকায়
  • ঘনবসতি জনবহুল এলাকায়
  • ব্যাংক, বীমা, এনজিও অফিসের পাশে

এছাড়াও বিভিন্ন আবাসিক এলাকার মোড়ে, গ্রামের ছোট বাজারে যদি কম্পিউটারের দোকান না থাকে ইত্যাদি জায়গায় কম্পিউটারের দোকান দিতে পারেন।

দোকান নির্বাচনের সময় একটু মোটামোটি বড় আকারের দোকান নেওয়ার চেষ্টা করবেন। যাতে একটি রেক, কম্পিউটার, ফটোকপির মেশিন ইত্যাদি ভালো করে বসানো যায়। তবে প্রসিদ্ধ/বিখ্যাত জায়গায় ছোট দোকান পেলেও নিতে পারেন কোনো সমস্যা নাই।

দোকানের নাম নির্বাচন

আপনি দোকানে কি কি ধরনের সেবা দিবেন সেটার উপর নির্ভর করে নাম সিলেক্ট করবেন। যেমন আপনি যদি ছবি তোলেন আর অনলাইনে বিভিন্ন কাজ করেন তাহলে এইরকম নাম দিতে পারেন যেমন-

  • ফাহাদ ডিজিটাল ষ্টুডিও এন্ড ইন্টারনেট জোন
  • রনি ডিজিটাল ষ্টুডিও এন্ড ইন্টারনেট সেবা
  • ফুজি কালার ল্যাব এন্ড অনলাইন জোন
  • আনিশা কম্পিউটার এন্ড ইন্টারনেট
  • মা কম্পিউটার এন্ড ফটোস্টেট

পাশাপাশি যদি আপনি মগ, ক্যাপ, টি-শার্ট, জার্সি, হালখাতা কার্ড, বিয়ের কার্ড ইত্যাদি কাজও করেন তাহলে এভাবে নাম দিতে পারেন-

  • বর্ণমালা কম্পিউটার এন্ড প্রিন্টিং জোন
  • মায়ের দোয়া প্রিন্টিং হাউজ
  • বর্ণকলা কম্পিউটার এন্ড প্রিন্টার্স
  • মা ডিজিটাল ষ্টুডিও এন্ড প্রিন্টার্স

আপনি যেই বিষয় গুলো নিয়ে কম্পিউটারের কাজ করতে চাচ্ছেন সেই অনুযায়ী সুন্দর একটা নাম সিলেক্ট করবেন। 

কম্পিউটারের দোকানের ডেকোরেশন

আপনার দোকান যদি ষ্টুডিও ও অনলাইন কাজের জন্য সাজাতে চান তাহলে আপনাকে একটু রঙ্গিন করে সুন্দর করে সাজাতে হবে। আর যদি সাধারণ অনলাইন কাজ করবেন পাশাপাশি ছবিও তুলবেন তাহলে সাধারন ভাবে সাজালেই হলো। আবার যদি ছোট খাটো প্রিন্টিং এর কাজ করবেন তবে দোকানের পিছনের দিকে একটু জায়গা রাখা ভালো। কম্পিউটারের দোকান একটু ভালে করে গুছিয়ে সাজিয়ে নিবেন। দোকানের ডেকোরেশন যত ভালো হবে। তত কাস্টমাররা স্বাচ্ছন্দবোধ করবে। তবে এলাকা ভেদে সামঞ্জস্য রেখে সাজাবেন। 

See also  কিভাবে ব্লগিং করে সফল হওয়া যায়, ব্লগিং এ সফল হওয়ার উপায় Blogging Success Tips Bangla
কম্পিউটার দোকান ব্যবসা আইডিয়া, ষ্টুডিও ও অনলাইন দোকান দিতে কি কি লাগে
কম্পিউটার দোকান ব্যবসা আইডিয়া

কম্পিউটারের দোকান দিতে কি কি লাগবে

আপনি যদি কম্পিউটারের দোকানে মোটামোটি সব ধরনের কাজ করতে চান তাহলে আপনার বেশ কিছু জিনিসপত্র লাগবে।

  • কম্পিউটার সেটআপ
  • ফটো প্রিন্টার (কালার প্রিন্ট)
  • লেজার প্রিন্টার (সাদাকালো প্রিন্ট)
  • ফটোকপি মেশিন
  • ক্যামেরা/ ভালো মোবাইল
  • সাবলিমেশন প্রিন্টার (মগ, টি-শার্ট এর জন্য )
  • হিট প্রেস মেশিন (মগ, টি-শার্ট এর জন্য )
  • ইন্টারনেট কানেকশন (ওয়াইফাই/মোবাইল ডাটা)
  • লেমিনেটিং মেশিন
  • স্পাইরাল বান্ডিং মেশিন
  • আইপিএস (বিদ্যুৎ না থাকলে)
  • ট্রেড লাইসেন্স

আপনার বাজেট অনুযায়ী আপনি কি কি ধরনের কাজ করবেন সেটার উপর নির্ভর করে আপনি জিনিসপত্র ক্রয় করবেন। বাজেট যদি কম থাকে তাহলে ২০,০০০ টাকার মধ্যে কম্পিউটার কিনবেন, ছবি ও ডকুমেন্ট প্রিন্ট করার জন্য একটি প্রিন্টার ২০,০০০ টাকার মধ্যে। ছবি তোলার ক্যামেরা, বাজেট কম থাকলে সেকেন্ড হ্যান্ড ক্যামেরা নিতে পারেন বিশ্বস্ত কারো কাছ থেকে। অথবা আপনার হাতে যদি ভালো মোবাইল থাকে তাহলে আপাতত কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। 

আর যদি আরো বাজেট থাকে তাহলে সাদাকালো প্রিন্ট এর জন্য আলাদা লেজার প্রিন্টার ব্যবহার করতে পারেন। তবে প্রথম অবস্থায় ছবির প্রিন্টার দিয়েই ডকুমেন্ট প্রিন্ট এর কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। আর প্রয়োজন হবে ফটোকপির মেশিন যদি ফটোকপি করতে চান। 

আর যদি পাশাপাশি মগ,টি-শার্ট, জার্সি প্রিন্ট এর কাজ করতে চান তাহলে একটা হিট প্রেস মেশিন কিনে নিতে পারেন। এটাও ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকার ভিতরে পেয়ে যাবেন।

কম্পিউটারের দোকান দিতে হলে যে এই সবগুলো কিনতে হবে এমন কিন্তু নয়। আপনার বাজেট যদি একদম কম থাকে তাহলে শুধু কম্পিউটার আর একটা কালার প্রিন্টার দিয়েই শুরু করতে পারেন। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে বাকি মেশিনগুলো কিনে নিবেন। এখানে বড় লিস্ট দেওয়ার অর্থ হলো যে- আপনি কম্পিউটারের দোকানে ইত্যাদি মেশিন কিনে বাড়তি আয় করতে পারবেন।

এছাড়া দোকানের নামে একটি পেইজ খুলে নিবেন। এতে নতুন কাস্টমার পাওয়ার যেমন সম্ভবনা থাকে তেমন ই অনলাইনেও আপনার একটা পরিচিতি থাকবে।

কম্পিউটারের কি কি কাজ জানতে হবে

১। মাইক্রোসফট অফিস ওয়ার্ড, এক্সেল ও ফটোশপ এই তিনটার কাজ জানলেই আপনি কম্পিউটারের দোকান চালিয়ে নিতে পারবেন। তাই সবকিছু শেখার চেয়ে আপনি এই তিনটা ভালো করে শিখেন। বিশেষ করে অফিস ওয়ার্ডফটোশপ। 

২। টাইপিং স্পিড, কম্পিউটারের দোকানে আপনি বেশিরভাগ টাইপিং এর কাজ করবেন তাই আপনি নিয়মিত  টাইপিং করে বাংলা ও ইংরেজী এর স্পিড বাড়ান, মিনিটে যাতে ৩০ ওয়ার্ড  লিখতে পারেন। এছাড়া আরবী টাইপিং শিখতে পারেন। এতে বিভিন্ন মাদরাসার কাজ পেতে পারেন।

See also  দ্রুত গুগল এডসেন্স পাওয়ার উপায়, ব্লগে গুগল এডসেন্স পেতে করনীয়, এডসেন্স রিজেক্ট করার কারন

৩। ইন্টারনেট ব্রাউজিং জানতে হবে। গুগল থেকে কিছু খুজে বের করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অনলাইনে যে কোনো তথ্য ভর্তি, চাকরি, রেজাল্ট বিষয়ক যে কোনো কিছু যাতে সহজেই খুজে বের করতে পারেন।

৪। ফাইল কোনটা কি দেখা মাত্রই চিনে ফেলতে হবে। ফাইলের শেষে এক্সটেনশন এ দেওয়া থাকে এটা কি ফরমেট এর ফাইল যেমন- PDF, JPG, PNG, PSD, EPS, DOC ইত্যাদি দেখে চিনতে হবে। এবং এগুলো কিভাবে এডিট করে সেগুলোও শিখতে হবে। কাস্টমাররা বিভিন্ন ফাইল নিয়ে আসবে প্রিন্ট করাতে। এগুলা প্রিন্ট করে সহজেই ২০/৩০ টাকা নেওয়া যায়।

৫। ছবি ইডিটিং এর কাজ কাজ জানা। কিভাবে পাসপোর্ট সাইজ ছবি ও বিভিন্ন সাইজ এর ছবি যেমন- 3R, 4R, 5R কোনটার মাপ কত কোনটা কিভাবে এডিট করে সুন্দর করা যায় ইত্যাদি টুকটাক জানা থাকতে হবে। 

৬। কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিভিন্ন সময় সমস্যা দেখা দেয়। তাই নিজে হার্ডওয়ার এর টুকিটাকি কাজ শিখে নিবেন। কারন একটু সমস্যা হলেই যদি মিস্ট্রীর কাছে যান তাহলে ব্যবসার ক্ষতি পাশাপাশি মানুষ বলবে যে নিজের কম্পিউটার নিজেই ঠিক করতে পারে না।

কম্পিউটারের দোকানে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলে কোনো দোকানে ৫-৬ মাস কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে লাভবান হতে পারবেন। অন্যথায় অনেক কিছু বুঝে উঠতে পারবেন না।

কম্পিউটারের দোকানে কি কি কাজ করবেন

শুধু একটি কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও কালার প্রিন্টার দিয়ে যে সকল কাজগুলো করতে পারবেন। এখানে বিস্তারিত একটা লিস্ট দিয়ে দিলাম যাতে আপনার সুবিধা হয়।

  • অনলাইনে চাকরির আবেদন করা
  • ভর্তির আবেদন ও রেজাল্ট বের করা
  • ছবি প্রিন্ট, ছবি থেকে ছবি,
  • কালার প্রিন্ট ও কালার ফটোকপি
  • সিভি ও কভার লেটার তৈরি
  • কম্পিউটার কম্পোজ (বাংলা, ইংরেজী, আরবী টাইপিং)
  • জন্ম নিবন্ধন আবেদন ও যাচাই
  • ভোটার আইডি আবেদন ও আইডি কার্ড বের করা
  • পাসপোর্ট আবেদন ও চেক করা
  • ভিসা চেক করা
  • মেডিকেল রিপোর্ট চেক করা
  • ট্রেন, বাস, লঞ্চ ও বিমানের টিকেট ক্রয়।
  • সকল পরীক্ষার রেজাল্ট (চাকরি, ভর্তি  ও অন্যান্য)
  • টিন সার্টিফিকেট তৈরি
  • জমির খতিয়ান ও নকশা বের করা
  • মুক্তিযোদ্ধার বিভিন্ন সনদ বের করা
  • স্ক্যান করা, ই-মেইল করা
  • বিভিন্ন সরকারি ফরম বের করা
  • বোর্ড চ্যালেঞ্জ
  • বিভিন্ন ডকুমেন্ট ইডিট
  • সকল অনলাইন সম্পর্কিত কাজ

এছাড়া মেশিন থাকা সাপেক্ষে আরও কাজ করতে পারবেন যেমন-

  • ক্যামেরায় ছবি তোলা
  • ফটোকপি করা
  • লেমিনেটিং করা
  • স্পাইরাল বাইন্ডিং করা

হিট প্রেস মেশিন দিয়ে আরও অনেক কাজ করতে পারবেন। কিছু জিনিস আপনার কাছে থাকতে হবে প্রিন্ট দেওয়ার জন্য যেমন- মগ, ম্যাজিক মগ, পানি বোতল, কেননা যে কোনো মগে বা পানির বোতলে প্রিন্ট হবে না।

  • মগ প্রিন্ট
  • ম্যাজিক মগ
  • টি-শার্ট প্রিন্ট
  • জার্সি প্রিন্ট
  • গেঞ্জি প্রিন্ট
  • ক্যাপ প্রিন্ট
  • মাস্ক প্রিন্ট
  • পানির বোতল প্রিন্ট
  • ক্রিস্টাল গ্লাস ফ্রেম
  • রক স্টোন (পাথর) প্রিন্ট
  • ক্রেস্ট তৈরি
এছাড়া আপনি যদি আপনাদের বাজারে কোনো প্রেস/ডিজিটাল প্রিন্ট হাউজ/ ছাপা খানা থাকে তাহলে তাদের সাথে কন্টাক্ট করে আপনি ডিজাইন করে তাদের কাছ থেকে নিম্নের কাজগুলো করিয়ে নিতে পারবেন। যেমন-
  • ফটো ফ্রেম
  • সীল তৈরি
  • প্যানা/পিভিসি
  • ব্যানার/ স্টিকার
  • লিফলেট
  • পোস্টার
  • ভিজিটিং কার্ড
  • প্যাড তৈরি
  • রশিদ বই
  • ক্যাশ মেমো
  • বিয়ের কার্ড
  • দাওয়াত কার্ড
  • সকল ডিজিটাল প্রিন্ট এর কাজ
See also  ব্যবসায় সফল হওয়ার উপায়, কিভাবে সফল ব্যবসায়ী হওয়া যায়, How to success in business

পরবর্তীতে চাইলে আপনি দোকানে সেল্ফ/রেক বানিয়ে নিম্মোক্ত মালামাল রাখতে পারেন যেমন-

  • স্টেশনারী মালামাল, খাতা, কলম, পেন্সিল, ইত্যাদি
  • তাছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক আইটেম যেমন- লাইট, চার্জার, হোল্ডার, টেষ্টার ইত্যাদি ছোট ছোট আইটেম।

তবে উপরের এগুলো নিয়ে ব্যবসা করবেন কিনা সেটা নির্ভর করছে আপনার উপর। আপনার যদি মনে হয় যে, আমি এগুলো এগুলো পারবো। তবে সেই অনুযায়ী আগাবেন। তবে অতিরিক্ত করতে যাবেন না। আপনার সাধ্যের মধ্যে যেগুলো রয়েছে সেগুলোই করবেন। এই আর্টিকেলে শুধু আইডিয়া দিলাম।

কম্পিউটারের দোকানে কিভাবে কাজ করবেন

আপনার যেই যেই কাজের দক্ষতা রয়েছে সেই কাজগুলোই করবেন। এছাড়া চেষ্টা করবেন প্রতিদিন নতুন নতুন কাজ শিখার। ইউটিউব, গুগল সহ আমাদের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন আর্টিকেল প্রকাশ হয়। সেখান থেকে দেখে দেখে শিখে নিবেন। 

কাস্টমারদের সাথে ভালো ব্যবহার করবেন। দোকানে কাস্টমারদের বসার ব্যবস্থা করবেন যাতে ভির হলে বসে সিরিয়াল অনুযায়ী কাজ করতে পারেন। একটা কাজের মধ্যে দিয়ে অন্য কাজ ধরবেন না। ধরলেও বেশি জরুরী হলে তখন। সবসময় এমন করবেন না। 

কম্পিউটারের দোকানে যেই কাজগুলো করবেন না

বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র, দলিল, সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয় পত্র সরকার কর্তৃক সত্যায়িত যে কোনো কাগজপত্র কম্পিউটার দিয়ে এডিট, সংযোজন, বিয়োজন, মুছামুছি, নকল, জালি-য়াতি, ইত্যাদি কাজ করবেন না। এতে আইনগত সমস্যায় পরার সম্ভাবনা বেশি। স্কুল কলেজে বোর্ড পরীক্ষা চলাকালীন সময় প্রশ্নপত্র, উত্তরপত্র প্রিন্ট, ফটোকপি ইত্যাদি কাজ করবেন না।

প্রফিট কিভাবে হিসাব করবেন

আপনি যদি হিসাব করে কাগজের দাম ১ টাকা কালির দাম ১ টাকা। এইভাবে হিসাব করে কাজ করেন তাহলে লাভবান হতে পারবেন না। এখানে আপনার প্রত্যেকটা ব্যবসার ক্ষেত্রে একই রকম। 

এখানে আপনার হিসাব করতে হবে। কাগজ, কালী, বিদ্যুৎ খরচ, ইন্টারনেট খরচ, দোকানের খাজনা, দোকান ভাড়া, অগ্রিম জামানত ইত্যাদি সকল খরচ আপনার ঐ ১ টাকার কাগজ ও ১ টাকার কালির সাথে হিসাব হবে। আশা করি বুঝতে পারছেন। এছাড়া আপনি যদি কয়েকমাস একটা দোকানে কাজ করেন তাহলে সবকিছু বুঝতে পারবেন। 

পরিশেষে

আপনি যদি অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে নামেন তাহলে আপনার মাছ ভাতের অভাব হবে না। বাজারে আরেও কম্পিউটারের দোকান থাকলেও ব্যবসা টা কিন্তু চিপস আর জুস ব্যবসার মত নয় যে, এক দোকান থেকে কিনলেই হলো। কম্পিউটার ও অনলাইনের নিখুত কাজ কাস্টমারদেরকে আপনার দোকানে আসতে বাধ্য করবে। 

দূর থেকে এসে হলেও আপনার এখানে কাজ করবে। তাই সবসময় কাস্টমারদের সাথে ভালো ব্যবহার ও ভালো করে কাজ করে দিলে আস্তে আস্তে আপনার ব্যবসার প্রসার ঘটবে। এভাবে কাজ করতে করতে একসময় বস হয়ে যাবেন তখন আপনাকে ঠেকায় কে?