নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ | অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন

নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ | অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন: নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩! এটি যেনো প্রতি বছরের হট টপিক হিসাবে কাজ করছে। কারণ বাংলাদেশের যেকোনো সার্ভিস সঠিকভাবে পেতে প্রয়োজন একটি সার্টিফিকেট। এক্ষেত্রে ভোটার আইডি কার্ডই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য কপি হিসাবে কাজ করে। 

অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন
অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন

এটিকে আপনি বাংলাদেশের সকল নাগরিক সেবা পাবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টোকেন হিসাবেও ধরে নিতে পারেন। টোকেনে যদি কোনো তথ্য ভুল থাকে সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে তা কিন্তু সার্ভিস গ্রহণকালীন সময়ে ঝামেলা সৃষ্টি করে৷ 
সুতরাং বুঝতেই পারছেন প্রতিটি নাগরিকের সঠিক ভোটার আইডি কার্ড থাকাটা কতটা জরুরি৷ চলুন আজকে এই আর্টিকেলের সাহায্যে নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ এর সকল প্রশ্নের উত্তর একসাথে জেনে নেওয়া যাক। 

ভোটার নিবন্ধন কি? 

বাংলাদেশের একটি সঠিক নাগরিক হিসাবে নিজেকে হালনাগাদ করার নিয়ম বা প্রক্রিয়াকে ভোটার নিবন্ধন বলে। এই প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে মূল নায়ক হিসাবে কাজ করে এক একটি ভোটার আইডি কার্ড। অর্থ্যাৎ ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহ বা তৈরির পুরো প্রসেসটিকে আমরা ভোটার নিবন্ধন বলতে পারি৷ 

বাংলাদেশ বনাম নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩

২০২৩ সালের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কিন্তু ভোটার আইডি কার্ড সংগ্রহের প্রসেসকে আরো আধুনিক করেছে। যার ফলে ভোগান্তি কমেছে চোখে পড়ার মতো। সোজা কথায় বর্তমানে বাংলাদেশে ভোটার আইডি কার্ড হালনাগাদ করা বা তৈরি করা অনেক সহজ। 
তবে কঠিনের মধ্যে কঠিন যে প্রসেসটি সম্পর্কে আমরা বলতে পারি সেটি হলো নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ এর সকল স্টেপ ফলো করে ভোটার আইডি কার্ড তৈরি-পরবর্তী প্রসেস। 
যদিও এই প্রসেসে ভোগান্তির কবলে সকলকেই পড়তে হয় না। কেবল পড়তে হয় তাদেরকেই যাদের আইডি কার্ডে ইতিমধ্যেই কোনো না কোনো ভুল ধরা পড়েছে। 
সোজা কথায় আপনি খুব সঠিকভাবেই নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ প্রসেস মেনে ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করে তাতে কোনো ভুল ধরা পড়লেই সমস্যা। এই সংশোধনের প্রসেসটা অনেক কঠিন এবং এটি প্রচুর ভোগান্তিতে ফেলে। 
যাইহোক। চলুন…নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ সম্পর্কিত আলোচনার পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাক। 

অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন করতে কি কি লাগে? 

এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ প্রসেসে আপনার ঠিক কি কি যোগ্যতা থাকতে হবে। 
নতুন ভোটার নিবন্ধন করতে হলে আপনাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। কোনো বিদেশি ব্যাক্তি বাংলাদেশের নাগরিকতা পেলেও এর প্রসেস কিন্তু ভিন্ন। 
যাদের বয়স ১৬ বছরের কম তারা কোনোভাবেই ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে না। যারা ১৬ বছর বয়সী বা এর চেয়েও যাদের বয়স বেশি কেবল তারাই এই নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে। 
যারা ইতিমধ্যেই একবার আবেদন করে ফেলেছেন তারা নতুন করে আর ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। অর্থ্যাৎ প্রতিটি ব্যাক্তি জীবনে কেবল একবারই ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে।

অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন করতে কি কি ডকুমেন্টস লাগে? 

নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ আবেদনের যোগ্যতা, শর্ত বা কি কি লাগে সে-সম্পর্কে তো জানলেন। এবার আসুন এই নিবন্ধনে কি কি কাগজপত্র লাগতে পারে সে-সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। অনলাইনে নতুন ভোটার নিবন্ধন করতে হলে:
এইচএসসি ছাড়া বাকি ৩ টি পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট লাগবে। অর্থ্যাৎ পিএসসি, জেএসসি বা এসএসসির সার্টিফিকেটের যেকোনো একটি হলেই হবে। 
আবেদনকারীর জন্ম সনদের প্রয়োজন পড়বে। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করতে হবে। 
যাদের শিক্ষা সনদ নেই তাদের অবশ্যই পাসপোর্ট কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে হবে। 
অনেক সময় নতুন ভোটার অঙ্গীকারনামা নামের একটি নতুন ডকুমেন্টসের প্রয়োজন পড়তে পারে। প্রয়োজনে এটিও আপনাকে শো করাতে হবে। 
যেকোনো লিগ্যাল অবিভাবক বিশেষ করে বাবা, মা, স্বামী কিংবা অনেক স্ত্রীর আইডি কার্ডের ফটোকপি লাগবে এবং এটি কিন্তু নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ আবেদনের ক্ষেত্রে আবশ্যক ডকুমেন্ট। 
আবেদনকারীর ঠিকানার প্রমাণ হিসাবে বাড়ি ভাড়ার যেকোনো ডকুমেন্টস বা কারেন্ট বিলে বেশকিছু কপি দিতে হবে। 
সবশেষে লাগবে নাগরিকত্ব সনদ। 

নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করার নিয়ম

যারা ইতিমধ্যেই নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ আবেদন-প্রক্রিয়া সেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা নিচের স্টেগুলি ফলো করুন:
অনলাইনে নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করুন
যারা ঝামেলা এড়াতে ঘরে বসেই আবেদনের কাজ সেরে ফেলতে চান তারা অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে: 
services.nidw.gov.bd এই টেক্সটটি কপি করে আপনার ব্রাউজারে পেস্ট করুন
ওয়েবসাইট শো করলে তাতে প্রবেশ করুন
এবারে ক্লিক করুন “একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন” অপশনে
এবারে আপনার সঠিক নাম বিশেষ করে আসল নাম দিন
পরবর্তী বক্সে আপনার সঠিক জন্ম তারিখ দিন
এবারে শো করা ক্যাপচাটি ঠিকভাবে পূরণ করুন
তারা একটি সচল নাম্বার এবং তাতে পাঠানো ওটিপি দিয়ে আপনার একাউন্ট ভেরিফাই করুন
একাউন্ট ভেরিফাই করার সময় এমন নাম্বার দিন যে নাম্বারে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাসেজ পাঠানো হলে আপনি ঠিকই পেয়ে যাবেন
এবার একাউন্টের ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড দিন এবং নিশ্চিত করুন যে আপনার পাসওয়ার্ডটি বেশ স্ট্রং হয়েছে
আপনার প্রোফাইল শো করলে তাতে গুরুত্বপূর্ণ ইনফোগুলি দিন
এডিট বাটনে ক্লিক করে আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য দিতে শুরু করুন
পিতার তথ্য, মায়ের তথ্য এবং বিবাহিত জীবন সম্পর্কিত তথ্য (যদি থাকে) দিন
এবারে শিক্ষাগত তথ্য এবং অন্যান্য তথ্য বিশেষ করে শিক্ষাগত যোগ্যতা (আবশ্যিক), পেশা (আবশ্যিক), ধর্ম (আবশ্যিক), অসমর্থতা (প্রযোজ্য হলে), সনাক্তকরণ চিহ্ন (যদি থাকে), টিন নাম্বার (যদি থাকে), ড্রাইভিং লাইসেন্স (যদি থাকে), পাসপোর্ট (যদি থাকে) সঠিকভাবে প্রদান করুন

অফিসে গিয়ে নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করুন

অনলাইনে যারা নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ আবেদন করতে ইচ্ছুক নন তারা সরাসরি অফিসে গিয়েও আবেদনের কাজ সেরে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ স্টেপ তারাই ফলো করবে এবং আপনাকে খুব একটা কষ্ট করতে হবে না। 
এক্ষেত্রে আবেদনের জন্যে অফিস হিসাবে আপনাকে বেছে নিতে হবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিস। অফিস আপনাকে ভোটার আইডি কার্ড আবেদনের জন্য একটি ফরম দেবে। যার তথ্য থাকবে সম্পূর্ণ অনলাইন ভার্সনের মতো। সুতরাং সঠিকভাবে ফরম ফিলআপ করে তাদেরকে জমা দিলেই আপনার কাজ শেষ। 

ভোটার আইডি কার্ড চেক করার নিয়ম

ভোটার আইডি কার্ড চেক করার পূর্বে আপনাকে তাদের নিয়ম অনুযায়ী বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিজেকে হালনাগাদ করতে হবে। যাইহোক! ভোটার আইডি কার্ড চেক করার নিয়ম জানতে নিচের স্টেপগুলি ফলো করুন: 
মোবাইলের সাহায্য ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে আপনাকে জিডি অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে
এবার অ্যাপ ওপেন করে রেজিষ্ট্রার অপশনে ক্লিক করতে হবে
সেখান থেকে নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ আবেদনের স্লিপ নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিতে হবে
সবশেষে সার্চ বাটনে ক্লিক করলেই সব ইনফো শো করবে

ভোটার আইডি কার্ড বাহির করার নিয়ম 

যারা অনলাইনের সাহায্যে নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ আবেদন করবেন তাদের অবশ্যই ভোটার আইডি কার্ড বাহির প্রয়োজন পড়বে। এক্ষেত্রে এখানে ক্লিক করে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। 
এবার আপনার এনআইডি কার্ডের নাম্বার দিন এবং সেই সাথে সঠিক জন্ম তারিখ দিন। সবশেষে ক্যাপচা পূরণ করে সার্চ করুন। একাউন্টের যে ড্যাশবোর্ডটি শো করবে সেখান থেকে সরাসরি আপনার ভোটার আইডি কার্ড বাহির কিংবা ফটোকপি করে নিতে পারবেন৷ 
নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ সম্পর্কিত সকল তথ্য একসাথে সাজিয়ে আপনাদের একটি তথ্যবহুল আলোচনা উপহার দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আশা করি কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন। 
মনে রাখবেন নতুন ভোটার নিবন্ধন করার সময় সকল তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করাটা বেশ জরুরি। কারণে সংশোধনের পর্যায়ে এলে আপনাকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। 
আর ১৬ বছর হলেই আস্তে-ধীরে নতুন ভোটার নিবন্ধন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। কারণ এটি বেশ জরুরি একটি কপি। ঠিক শুরুতেই উদাহরণ দেওয়া “টোকেন” এর মতো। আশা করি বিষয়টি নিয়ে আর কোনো অবহেলা করবেন না। 
FAQ
আমার ভোটার আইডি কার্ড তৈরি হয়েছে কিনা কিভাবে চেক করব?
নতুন ভোটার নিবন্ধন ২০২৩ আবেদন করার পর ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে জিডি অ্যাপ বাহির করুন। এরপর রেজিষ্ট্রেশন করুন এবং নিজের ভোটার আইডি কার্ডের আবেদন নাম্বার ও জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ করুন। সার্চ করলেই আপনার ভোটার আইডি কার্ড তৈরি হয়েছে নাকি পেন্ডিংয়ে আছে তা শো করবে৷ 
See also  জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে কি কি লাগে? জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে কি কি প্রয়োজন?